
স্টাফ রিপোর্টার : ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন উপজেলায় পরপর দুই দফা ঝোড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ভুট্টাখেত লন্ডভন্ড হয়ে গেছে, খেতের ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। আম ও লিচুর গুটি ঝরে পড়ায় চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার সকালে দমকা হাওয়ার সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। দিনের সেই ক্ষতির ধাক্কা কাটার আগেই গভীর রাতে আবারও ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হয়। পরপর দুই দফা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভুট্টা ও সবজিখেতে। অনেক জায়গায় ভুট্টাগাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এ কারণে ফলন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মরিচ, করলা, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজিখেতও নষ্ট হয়ে গেছে। শিলার আঘাতে পাতাগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে। সদরের বাঁকসিঁড়ি গ্রামে শোবার ঘরে গাছ চাপা পড়ে এক বৃদ্ধ আহত হয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর এলাকার কৃষক মনসুর আলী বলেন, ‘শিলাবৃষ্টি আর ঝড়ে আমার খেতের ভুট্টাগাছ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এগুলো থেকে ফলন পাওয়ার কোনো ভরসা দেখি না। এবার আমার পুঁজিটাই শেষ হয়ে গেল।

রানীশংকৈল উপজেলার রাতোর এলাকার কৃষক জয়ন্ত রায় বলেন, আমার দুই একর জমিতে করলা ছিল। শিলার আঘাতে গাছের পাতা ছিঁড়ে গেছে, আর ঝড়ে সবজির মাচা উড়ে গেছে। যে ক্ষতি হলো, তা আমি কীভাবে পুষাব?
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বাদামবাড়ি এলাকার আমচাষি আবদুর রহিম জানান, তাঁর এক একর জমির আমবাগানে শিলাবৃষ্টিতে আমের গুটি ঝরে গেছে। ঝড়ে গাছের ডালপালাও ভেঙে পড়েছে।
হরিপুর উপজেলার গেদুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম বলেন, দুই দফা ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সবজি, ভুট্টা, মরিচখেত, আম-লিচুবাগানসহ নানা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে অনেকের ঘরের টিনও ফুটো হয়ে গেছে।
পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ঝড়বৃষ্টির খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিশেষ করে ভুট্টা ও সবজিখেতে বেশি ক্ষতি হয়েছে। আম ও লিচুর গুটিও ঝরে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুই দফা ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে বিশেষ করে মরিচ ও ভুট্টার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দ্রুত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঠিক পরিমাণ জানতে কিছুটা সময় লাগবে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।