স্টাফ রিপোর্টার : ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির প্রবীণ সদস্য ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর শহরের আশ্রমপাড়া মহল্লার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আব্দুল করিম বার্ধক্য জনিত কারণে টাঙ্গাইলে সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যূকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর এবং স্ত্রী, দুই পুত্র ও দুই কন্যা রেখে গেছেন। বুধবার সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে মরহুমের প্রথম এবং বাদ জোহর মরহুমের গ্রামের বাড়ি রাণীশংকৈলের নেকমরদে দ্বিতীয় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন হবে। তাঁর মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতি শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এডভোকেট আব্দুল করিম ১৯৪৪ সালের ১ জুলাই ঠাকুরগাঁও জেলার নেকমরদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম দবিজউদ্দিন আহমেদ ও মাতা মরহুমা মতিজান বিবি। ১৯৭৩ সালের ২৬ জুন তিনি আইন পেশায় অন্তর্ভুক্ত হন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বার অ্যাসোসিয়েশনের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও দিনাজপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি অ্যাথলেটিকস সেক্রেটারি ছিলেন এবং ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর নেকমরদ ও রাণীশংকৈল এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার উদ্যোগে সেখানে একাধিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আইন পেশার পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাÐে যুক্ত ছিলেন। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে বা নামমাত্র খরচে আইনি সহায়তা দিতেন তিনি। তিনি একটি ইংরেজি ব্যাকরণ বইয়ের রচয়িতাও ছিলেন। পারিবারিক জীবনে তিনি স্ত্রী রওজাতুন করিমকে রেখে গেছেন। যিনি একজন শিক্ষাবিদ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের ফুলকুঁড়ি শিশুনিকেতনের সাবেক প্রধান শিক্ষিক ছিলেন। মরহুমের দুই পুত্র ও দুই কন্যা রয়েছে।