Home » পঞ্চগড়ে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স

পঞ্চগড়ে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স

by নিউজ ডেস্ক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড় পৌরসভায় অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত সরকারের উপহার দেওয়া প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২১ সালে উপহার হিসেবে পাওয়া আইসিইউ–সংবলিত এই অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় ধুলাবালিতে ঢেকে আছে।

পৌরসভা প্রশাসনিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারত সরকারের দেওয়া আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সটি পঞ্চগড় পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাজশাহী বিভাগের তৎকালীন সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটী। তবে অ্যাম্বুলেন্সটি পাওয়ার পর একবারো ব্যবহার করা হয়নি। জনবল সংকট এবং অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের কারনে দীর্ঘদিন ধরে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার পেছনে একটি টিনের ছাউনির নিচে পেরে আছে অ্যাম্বুলেন্সটি। বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা সংবলিত গিফট প্লেট থাকলেও পুরো গাড়িজুড়ে জমেছে ধুলাবালির স্তর। দীর্ঘদিন চালু না থাকায় ব্যাটারি ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মার্চ মাসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে এসব অ্যাম্বুলেন্স স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে ভারত সরকার। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে আইসিইউ সুবিধা, পোর্টেবল ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সিলিন্ডার, কার্ডিয়াক মনিটর, নেবুলাইজার, সাকশন মেশিন, পালস অক্সিমিটারসহ আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে এখনো আইসিইউ ইউনিট চালু হয়নি। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর বা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে নেওয়ার পথেই আইসিইউ সেবার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পঞ্চগড়ে এখনো কোনো বেসরকারি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা নেই। অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার উপযোগী হলে আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হওয়া রোগীরা তাৎক্ষণিক ও নিরাপদ চিকিৎসা সুবিধা পেতেন, যা তাদের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।

পঞ্চগড় পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সচালক মামুন বলেন, অন্যান্য অ্যাম্বুলেন্সের তুলনায় এই অ্যাম্বুলেন্সেটির জ্বালানি খরচ অনেক বেশি হওয়ায় কেও আগ্রহ প্রকাশ করছেনা

পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, অযত্নে পড়ে থাকলে অ্যাম্বুলেন্সটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত চালুর বিষয়ে পৌরসভার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

পঞ্চগড় পৌরসভার ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির জানান, পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সটি জ্বালানি ব্যয় বেশি হওয়ায় এখন পর্যন্ত সেটি থেকে কোনো আয় করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ২০২১ সালে পঞ্চগড় ডায়াবেটিক সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাম্বুলেন্সটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে কিছুদিন ব্যবহারের পর তারা সেটি পৌরসভায় ফেরত দেন।

পরবর্তীতে মাসিক চুক্তিভিত্তিতে একজনের কাছে অ্যাম্বুলেন্সটি দেওয়া হলেও তিনিও কিছুদিন পর তা ফেরত দেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে অ্যাম্বুলেন্সটি ইজারা দেওয়ার জন্য পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সে সময় একজন আবেদন করলেও পরে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক সীমা শারমিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে প্রয়োজনীয় জনবল ও ব্যবস্থাপনার অভাবে কোটি টাকার আধুনিক এই অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার না হওয়ায় পঞ্চগড়ের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

You may also like