
নাহিদ রেজা : হাঁড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। রাতভর বৃষ্টির মতো ঝড়ে কুয়াশা। গেল কয়েকদিন ধরেই দিনের অর্ধেক বেলা অবদি দেখা নেই সূর্যের। এদিকে জেলা প্রশাসক বলছেন বিতরণ করা হচ্ছে শীতবস্ত্র
দিনের পর দিন ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে শীতের প্রকোপ। হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হিমেল বাতাসে কাহিল হয়ে পড়েছে মানুষ। গত কয়েকদিন ধরেই দিনের অর্ধেকটি সময় সূর্যের দেখা মেলেনা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে হিমেল বাতাস। অনুভূত হচ্ছে তীব্র শীত। শীতে জড়োসড়ো হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষ। দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ। আর বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা। ঘন কুয়াশা থাকায় দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই।
এদিকে রাতের আধারে জেলার বিভিন্ন স্থানে শীতবস্ত্র নিয়ে ছুটে যেতে দেখা যায় জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানাকে।
জেলা প্রশাসকের দেয়া তথ্য মতে, চলতি শীতে প্রথম ধাপে মন্ত্রাণালয় থেকে শীতবস্ত্র কেনার জন্য ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ এসেছে। পরবর্তীতে ২য় ধাপে আরো ২৯ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ এসেছে শীতবস্ত্র কেনার জন্য। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সাড়ে ১২হাজার কম্বল এসেছে।
স্থানীয় শ্রমিক জয়নুল ইসলাম বলেন, ভোরে কাজের জন্য বের হতে খুব কষ্ট হয়। গরম কাপড় নেই, শরীর কাঁপে। কাজ না করলে খাবার জোটে না।
অটোচালক জামিনি রায় বলেন, কুয়াশায় স্পষ্ট দেখা যায় না। গাড়ি চালাতে হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। আবার গাড়ি না চালালে সংসার চলে না। আগে দিনে যেখানে ৮০০–৯০০ টাকা ভাড়া মারতাম, এখন ঠান্ডার কারণে তেমন কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তাই ভাড়াও কমে গেছে। এখন দিনে ৪০০–৫০০ টাকা আয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
পথচারী আব্দুল্লাহ সহ বেশ কয়েকজন দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি শীতবস্ত্র সহায়তার দাবি জানিয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত সরকার থেকে শীতের কোনো কিছু পাইনি। এই শীতে গরম কাপড় না পেলে টিকে থাকা খুব কঠিন। সরকার যদি শীতবস্ত্র দিত, তাহলে আমাদের জন্য উপকার হতো।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, বরাদ্ধ আসা অর্থ দিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। আমি নিজেই রাতে গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করছি। যাদের একান্ত প্রয়োজন আমরা তাদেরকেই দিচ্ছি।