শাকিল আহমেদ : ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ছাই উড়ছে চারদিকে। কালো ছাইয়ে ছেড়ে গেছে চারপাশ। বাড়িঘর, গাছপালা, পুকুর, নদী, খাল-বিল সবখানেই ছাইয়ের স্তুপ। এছাড়াও এই ছাইয়ের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়েও পড়ছেন। দীর্ঘ ৫৫ বছরে ধরে বাহিরে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
স্থানীয়রা বলছে- বারংবার বলা সত্ত্বেও সুগারমিল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। অন্যদিকে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ বলছে- মিলটি পুরনো হওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, ছাইয়ের এই সমস্যা নিরসনে তারা প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।

সুগার মিল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল জেলার একমাত্র প্রধান ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৫৮ সালে সমাপ্তি ঘটে। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সারাদেশে লুটপাট শুরু হলে ঠাকুররগাঁও সুগার মিলের চিমনির ঢাকনাসহ বেশ কিছু মালামাল লুটপাট হয়ে যায়। তারপর থেকে প্রতি মওসুমে সুগার মিলটি চালু হলেই চিমনি দিয়ে ছাই বাইরে ছড়িয়ে পরতে থাকে। আর ভোগান্তিতে পড়ে আশে পাশের স্থানীয় বাসিন্দাসহ পথচারীরা।
প্রতিবছর সাধারণত ডিসেম্বর মাসে মিলটি চালু হয় এবং ৬০-৭০ দিন চালু থাকে। চলতি মওসুমে গেল বছরের ১৯ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ৬৮তম আখ মাড়াই শুরু কার্যক্রম শুরু হয়। মিলটি চালুর পর থেকে প্রতিদিনই মিলের ছাই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।

সুগার মিল কোলনীর বাসিন্দা সিরাজুল হক বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে উড়তে থাকা সুগার মিলের ছাইয়ে ঠাকুরগাঁও রোড বাজার সহ আশপাশে বিভিন্ন স্থানে স্তুপে পরিণত হয় কালো ছাইয়ের। বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, আনাচে-কানাচে সর্বত্র দেখা মিলে সুগার মিলের ছাই।
ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, ুসগার মিলের ছাইয়ের কারণে আশপাশের এলাকা নোংরা হয়ে যায়। বিষাক্ত ছাই বাতাসের সঙ্গে প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। একদিকে ছাইয়ের দুর্ভোগ অপরদিকে এর সমাধানের পথও জানা নেই কারও!
পথচারী আব্দুল্লাহ হক বলেন, বাইক চালানোর সময় সুগার মিলের ছাই এসে চোখে পড়ে, বেশ কয়েকদিন অনেক কষ্ট হয়েছে। চোখে অনেক জ্বালাপোড়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
শহরের মুন্সিরহাট এলাকার সোহেল রানা বলেন, সুগার মিলের ছাইয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে স্থবিরতা। অনেকের চোখে এই ছাই পড়ে হচ্ছে অসুস্থ। আবার দুষিত হচ্ছে সুপেয় পানিও। ছাই বন্ধে কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপও। তাই যতদ্রুত সম্ভব সুগার মিলের ছাই বন্ধ হোক।

ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনালের হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সাজ্জাদ হায়দার শাহীন বলেন, ধুলো, ময়লা বা ছাই এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসবের কারণে অন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই আধুনিক পদ্ধতিতে কলকারখানাগুলো পরিচালনা করা উচিৎ। তাহলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রোধ করা সম্ভব।
ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শাহজাহান কবির বলেন, ঠাকুরগাঁও সুগার মিলটি অনেক পুরনো, এটি আধুনিকায়ন করা জরুরী হয়ে পড়েছে। পুরনো হওয়ার কারণে চিমনি থেকে ছাই ছড়িয়ে পড়ছে। ছাই ঠেকানোর জন্য আমরা ইতিমধ্যে প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।