
পঞ্চগড় প্রতিনিধি : রবিবার (১১ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারের দাবিতে চলা আন্দোলন শেষে লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার অবসান ঘটেছে। জেলা প্রশাসন ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা সমাধানের বিষয়টি সময় সংবাদকে জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, পঞ্চগড় আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি, সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান, সমন্বয়ক খোরশেদ মাহমুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক খোরশেদ মাহমুদ বলেন, গতকালকে আমাদের শহীদ ওসমান হাদী ভাইয়ের বিচারের দাবিতে একটি কর্মসূচি ছিল। সেখানে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তার প্রেক্ষিতে আজ আমরা জেলা প্রশাসন, জেলার আর্মি ক্যাম্পের সম্মানিত মেজর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল জরুরী বৈঠকে বসেছিলাম। আমরা সেখানে ঘটনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে বিভিন্ন কথাবার্তার মধ্য দিয়ে আমরা সমাধানে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা চাই আগামী দিনে আমাদের বাংলাদেশকে গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যেরকম অগ্রণী ভূমিকা রাখছে- আগামীতেও রাখবে। সেই সাথে আমরা আশা করব বাংলাদেশের মানুষ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে বাংলাদেশকে গড়ার জন্য, আগামীতেও তারা আমাদের পাশে থাকবে ইনশাল্লাহ।
প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে, তারা আমাদের বিভিন্ন বিষয়গুলো ব্রিফ করেছে। এবং আমরা আমাদের জায়গা থেকে তাদেরকে আমাদের কথাগুলো তুলে ধরেছি। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়েছি। যেটা আগামী দিনে আমরা আশা করছি- পঞ্চগড়ে থেকে সারা বাংলাদেশে এরকম একটি পরিবেশ তৈরি হবে। যার মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে ইনক্লাবের একটি রাষ্ট্র আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারব ইনশাল্লাহ বলেও জানান তিনি।
সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান বলেন, আজকে প্রায় ৫ ঘন্টা ধরে কন্টিনিউ দফায় দফায় মিটিং করেছি। এর মধ্যে আমাদের যে দাবিদাবা ছিল, যেটাতে সকলের সম্মতিতে তারা মেনে নিয়েছে। আমরা তাদেরকে বলেছিলাম যে, গতকালকের যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাটি ঘটেছিল- সেটার জন্য জেলা প্রশাসককে সরাসরি অফিসিয়ালি দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং সেনাবাহিনীর পঞ্চগড় ক্যাম্প কমান্ডার পরবর্তীতে যেন এই সব বিষয় ঘটলে সেটা আন্তরিকতার সাথে দেখে। এই আশ্বাস তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন। আমাদের এই দুইটি দাবি ছিল। এই দুইটি দাবিতে তারা আমাদের সাথে সম্মতি পোষণ করেছেন।
সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি বলেন, ঘটনাস্থলে গতকাল যারা আমাদের আহত হয়েছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়। যারা আহত হয়েছিল তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই বাড়িতে গিয়েছিল। আর এখনো যারা হাসপাতালে আছে আমরা তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি। তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা আন্তরিকতার সাথে দেখছি। তারা সুস্থ হলে পরবর্তীতে বাসায় ফিরবে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, গতকাল ঘটনার পর একটি উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিবেশে বিষয়টি সমাধান সম্ভব হচ্ছিলো না। পরে আমরা বিষয়টি সমাধানে সময় চেয়ে সকলকে আশ্বাস দিয়েছিলাম। আজকে জরুরী বৈঠকে সকলের উপস্থিতিতে এবং সম্মতিতে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা হয়েছে। তারা সবাই আমাদের সাথে আছে এবং আমরাও তাদের পাশে থাকবো। এদিকে গতকালেন ঘটনায় যারা আহত হয়েছে তাদের চিকিৎসার ব্যায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
উল্লেখ্য, রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে পঞ্চগড়ের শেরেবাংলা পার্ক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি শেষের দিকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সময় সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। সোমবার জরুরি বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।
সোহাগ হায়দার
পঞ্চগড়
১২-০১-২০২৬