১৫

স্টাফ রিপোর্টার : গত ৫ আগস্টের পূর্বে দেশের নির্বাচন গুলোতে যে ধরনের ভোট ডাকাতি ও কারচুপি হয়েছিল, গত ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে শেরপুর, বগুড়া এবং সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আমরা দেখলাম সেই একই চিত্র। এই নির্বাচন গুলোই প্রমাণ করে দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। এই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে। এই কমিশন হলো একটি অথর্ব ও ক্যাঙ্গারু নির্বাচন কমিশন। গত ২৯ অক্টোবর সরকার ও বিএনপি নেতাদের সাথে আতাত করে একটি প্রহসন এবং নাটকের নির্বাচন তারা রচনা করেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, ব্যর্থতার দায় নিয়ে অবিলম্বে এই নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে হবে।
গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লি) আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি, জালভোট প্রদান, নির্বাচনী এজেন্ট ও কর্মীদের ওপর আক্রমণ বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর , জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়েমের প্রতিবাদে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড জুলাই চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এসব কথা বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নইলে আমরা দ্রুত সময়ের ভিতরে আমরা পরবর্তী কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো। পরিকল্পিত এই ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে আমরা দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক যে ফল তৈরি করা হয়েছে, তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য এক কালো অধ্যায়। অনতিবিলম্বে এসব সহিংসতা বন্ধ ও অনিয়মে জড়িত দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।
জামায়াত প্রার্থী আরো বলেন, আপনারা সোস্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে আপনারা দেখেছেন নির্বাচনে কিভাবে জালিয়াতি ও ভোট ডাকাতি হয়েছে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি ইতিহাস রচিত হয়েছে। আমরা আগেই বলেছিলাম য়ে একটি কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বানের আগে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের দাঁড়িপাল্লার কর্মী সমর্থকদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছে। অনেকে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছে। নারী কর্মীদেরও তারা ছাড়েনি, একজন নারী কর্মীকে তারা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে উল্লেখ করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ জনগণ এসব অন্যায় জুলুমের উপযুক্ত জবাব অবশ্যই দিবে।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান এর সভাপতিত্বেঅনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারী মোহাম্মদ আলমগীর, প্রেস সেক্রেটারী অধ্যক্ষ শঅহ জালাল জুয়েল, শহর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুজ্জামান শাহ্ শামীম, সদর আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশের পূর্বে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড জুলাই চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা মোড় হয়ে পুনরায় বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।