Home » ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

by নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গভবনে শুরু হলো নতুন অধ্যায়ের। বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তৃণমূল থেকে উঠে এসে বিএনপির দুর্দিনের কাণ্ডারি মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। আজ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ কয়েকশ অতিথি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় তিন যুগ পর গত ২০ আগস্ট ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা মির্জা ফখরুল। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। সেদিন রাতেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল নির্ধারিত শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল।

শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে বঙ্গভনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করার সময় উচ্চৈঃস্বরে আগমন বার্তা দেওয়া হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে অর্কেস্ট্রার ঝংকারে বেজে ওঠে জাতীয় সংগীতের সুর। এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। এরপর আসন গ্রহণ ও শপথ অনুষ্ঠান শুরুর অনুমতি প্রার্থনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। দরবার হলের মঞ্চে তিনটি আসন ছিল। মাঝের আসনে বসেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, তার ডানে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বামে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব শপথবাক্য পাঠ করানোর জন্য অনুরোধ জানান। তখন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। শপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে আমি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব। আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব। আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিব।’ শপথ পাঠ শেষ হলে শপথনামায় সই করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথনামা সত্যায়ন করেন স্পিকার। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ফুল দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। পরে এতদিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অতিথির আসনে গিয়ে বসেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তাদের শপথ শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সেই সঙ্গে অতিথিদের দরবার হলের উত্তর দিকে ক্রেডেনশিয়াল মাঠে চা-চক্রে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

শপথ অনুষ্ঠানে দরবার হলের প্রথম সারিতে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সাবেক অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান। নতুন রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ, ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ, বড় মেয়ের স্বামী ফাহাম আব্দুস সালাম, মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন ও মির্জা ইকবাল আমিনও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রথম সারিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সংসদের বিরোধী দলের দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানকেও দেখা গেছে। অতিথিদের সারিতে ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন ও নৌবাহিনীর প্রধান খোন্দকার মিজবাহ উল আজীম। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহল, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অতিথিদের কাতারে ছিলেন।

গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন। এর প্রায় ১ মাস পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান পেল বঙ্গভবন।

এর আগে বিকাল থেকেই রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন সড়কে ডাইভারশন রাখা হয়। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামীকাল রবিবার বঙ্গভবনে উঠবেন বলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে। সেদিন সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওয়ানা করবেন।

রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার বঙ্গভবনে ২ নম্বর গেটে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল ‘গার্ড অব অনার’ মঞ্চে নিয়ে যাবে। সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেবে। এ পর্ব শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে তার কার্যালয়ে যাবেন।

রাষ্ট্রপতি কার্যালয় জানিয়েছে, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। সেখানে পুস্পস্তবক অর্পণ করার পর তাকে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। শ্রদ্ধা জানানোর পর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিন্টো রোডের বাসায় ফিরবেন। এরপর তিনি তার গুলশানের বাসভবনে যেতে পারেন।

You may also like