Home » ঠাকুরগাঁও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নুতন অধ্যক্ষ আল আমীন

ঠাকুরগাঁও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নুতন অধ্যক্ষ আল আমীন

by নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার :  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় -এর অধিন ঠাকুরগাঁও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিটিসি) তে নুতন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে যোগদান করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষার্থীদের অতি পরিচিতি ও প্রিয়মুখ এবং একই কেন্দ্রের সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর (গার্মেন্টস ট্রেড) মোঃ আল- আমীন।

তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি দীর্ঘ ১৮বছর ইন্সট্রাক্টর পদে নিষ্ঠার সাথে দায়ীত্ব পালনের পর নিজ জেলায় এমন একটি সম্মানজনক পদে দায়ীত্বপ্রাপ্ত হলেন।

তাঁর এই দায়ীত্ব গ্রহণের পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দিপনা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিমত তিনি নিজ জেলায় এই পদে থেকে সকল অনিয়ম-দুর্নীতি দূরে ঠেলে দিয়ে আন্তরিকতার সাথে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে নিষ্ঠার সাথে দায়ীত্ব পালনে অগ্রণী ভ‚মিকা পালনে সচেষ্ট থাকবেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের পূর্ব আরাজী চÐিপুর গ্রামের বাসিন্দা মরহুম সিরাজ উদ্দিনের চতুর্থ সন্তান মোঃ আল- আমীন ১৯৯৭সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি-তে প্রথমস্থান নিয়ে পাশ করে দিনাজপুর টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে ভর্তি হন। সেখানে ২০০১সালে প্রথম বিভাগে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করে ঢাকায় ইউজিসি অনমোদিত একটি বেসরকারি ইউনিভারসিটি থেকে ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজিতে ২০০৭সালে বিএসসি কোর্স সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি আর বেকার বসে থাকেননি। কিছুদিন বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানীতে কর্মরত থাকার পর ২০০৭সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর (গার্মেন্টস ট্রেড) পদে যোগদান করেন । এই দীর্ঘ পথ চলায় অনেক বৈষম্যের স্বীকার হলেও তিনি একাগ্রমনে কাজ করে এসেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একই প্রতিষ্ঠানে তাঁকে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) পদে নিয়োগ প্রদান করায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

মোঃ আল- আমীন বলেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ হলো শ্রমবাজারের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পেশাগত উভয় ক্ষেত্রেই শ্রম-বিকাশের অন্যতম প্রধান উপাদান। এটি আমাদের দেশের বেকার সমস্যা হ্রাস করতে মানবসম্পদ উন্নয়নে এবং সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঠাকুরগাঁও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি (টিটিটিসি) যেন বিভিন্ন বাণিজ্য নির্ভর কোর্স সরবরাহ করে যাতে এটি স্থানীয় এবং বিদেশের চাকরির বাজারে সর্বাধিক প্রভাব ফেলতে পারে সেজন্য তিনি সর্বাত্বক চেষ্টা করতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই কেন্দ্রে মাত্র ৯টি ট্রেড পরিচালিত হয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি জানান, খুব দ্রুত তিনি এই কেন্দ্রে জাপানী ও কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা কোর্স, ফুড, আইসিটি কেয়ার গিভার, সিভিল কন্সট্রাকসন, আইসিটি প্লামবিং, ওয়েলডিং ট্রেড, সিসি প্রজক্ট ও ডরমেন্টরী চালুকরন ছাড়াও তিনি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে এই কেন্দ্রটিকে একটি মডেল প্রশিক্ষণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের লোকজনকে সার্বিক সহযোগিতার প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আশা করেন, ঠাকুরগাঁও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রযুক্তিগত জ্ঞান জনগণকে শিল্প উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং উচ্চমানের জীবনযাত্রাকে সমর্থন করতে সহায়তা করবে। সর্বোপরি দক্ষ প্রযুক্তিগতজ্ঞান জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব দেবে এবং বেকার সমস্যা হ্রাস করবে।

You may also like